উত্তরের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস: তিস্তায় বিলীন রাস্তার অংশ, বন্ধ বাংলা-সিকিম যোগাযোগ

ভারী বর্ষণে উত্তরবঙ্গের ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ভয়াবহ ধস। তিস্তায় বিলীন রাস্তার অংশ, বন্ধ বাংলা-সিকিম রুটে যান চলাচল। বিপর্যস্ত জনজীবন, জারি হলুদ সতর্কতা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ জুলাই ২০২৬ঃ টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জনজীবন। পাহাড় ও সমতলে একইসঙ্গে ধস, নদীভাঙন ও জলবন্দি পরিস্থিতির সম্মুখীন মানুষ। সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। রবিবার সকালে স্বেতীঝরার কাছে ভয়াবহ ধস নামায় রাস্তার একটি বড় অংশ তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে বাংলা ও সিকিমের মধ্যে যাতায়াতকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে সমস্ত রকম ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দুই রাজ্যের মধ্যে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থেকেই ওই এলাকায় রাস্তার গায়ে ফাটল দেখা গিয়েছিল। রবিবার সকালে সেই ফাটল ভয়াবহ রূপ নেয় এবং ধসের ফলে রাস্তার বড় অংশ গিলে নেয় তিস্তা। এর জেরে পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। শুধু জাতীয় সড়ক নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেই লাগাতার বর্ষণের জেরে জলবন্দি অবস্থা। জলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ির কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যেই তিস্তার জল ঢুকে পড়েছে। তিস্তা ও তোর্সা নদীর জন্য হলুদ সংকেত জারি করেছে সেচ দফতর। আলিপুরদুয়ারে রাতভর রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে ডিমা, কালজানি, রায়ডাক নদীতে জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যার প্রভাবেই এই টানা বর্ষণ। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি চলবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি থামবে না। নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে, ফলে নিচু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় ধস, নদীভাঙন ও জলবন্দি পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।