ব্যুরো নিউজ, ২৫ জুন ২০২৬ঃ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর হামলা এবং বিডিও অফিস ঘেরাওয়ের ঘটনায় কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার কলকাতায় এনআইএ-র দফতরে দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে আটক করা হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোথাবাড়িতে ‘এসআইআর’ (SIR)-এর কাজে নিযুক্ত বিচারকদের হেনস্থা ও বিডিও অফিস ঘেরাওয়ের নেপথ্যে অন্যতম মূল চক্রী ছিলেন এই কংগ্রেস নেতা।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারীদের হাতে এমন বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ এসেছে, যেখানে সায়েম চৌধুরীকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হিংসা ও উসকানিমূলক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। শুধু বিডিও অফিস ঘেরাও-ই নয়, ওই দিন রাতে কাজ শেষ করে ফেরার সময় অন্ধকারে বিচারকদের গাড়িতে যে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছিল, তার নেপথ্যেও সায়েমের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও সুনির্দিষ্ট ভূমিকা ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। গত এপ্রিল মাসে এই সংবেদনশীল মামলার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ।
কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, এই হিংসাত্মক কাণ্ডে এ পর্যন্ত মোট ৭২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ঘটনার শুরুর দিকে রাজ্য পুলিশ প্রথমে মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরিকে গ্রেফতার করেছিল। পরে এনআইএ মামলাটি নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাহজাহানকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই একই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আইএসএফ-এর স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা গোলাম রব্বানিকেও গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সায়েম চৌধুরীকে মালদহের কালিয়াচক থানায় ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে সেই দফায় তাঁকে গ্রেফতার করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছিল না। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক নথিপত্র খতিয়ে দেখে সায়েমের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ হাতে পান গোয়েন্দারা। এর পরেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতার নিউ টাউনের এনআইএ দফতরে তলব করা হয় এবং জেরায় অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।








