ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা সহ বিভিন্ন উৎসবে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে জুলুমবাজি এখনও প্রকট। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এই প্রবণতা কিছুটা কমলেও, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়নি।
সম্প্রতি অশোকনগরে চাঁদা না দেওয়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা এই সমস্যার গভীরতা আবারও সামনে এনেছে। ১৯৬৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত আশুতোষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তিন ভুবনের পারে’ ছবিতে বেকার যুবকদের চাঁদা কাটার এক ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। সেই ছবিতে চাঁদা কাটার ঘটনাকে সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখানো হলেও, বর্তমান পরিস্থিতি প্রায়শই ভিন্ন রূপ নেয়।
চাঁদার নামে জোরজুলুম, হুমকি ও অপ্রীতিকর ঘটনা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেকারত্ব এবং সমাজে সঠিক দিশার অভাব অনেক যুবককে এই ধরনের কার্যকলাপে ঠেলে দিচ্ছে। উৎসবের আনন্দকে ঢাল করে তারা নিজেদের আর্থিক চাহিদা মেটাতে বা ক্ষমতা প্রদর্শনে লিপ্ত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং এক ভীতির বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে।
পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হলেও, উৎসবের মরসুমে এই ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির উচিত স্বেচ্ছায় চাঁদা সংগ্রহ করা এবং জোরজুলুম থেকে বিরত থাকা।
এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য, যাতে উৎসবের পবিত্রতা বজায় থাকে ও মানুষ নির্ভয়ে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।








