ক্ষুদিরামকে সিলেবাসের ৪ লাইনে বাঁধা অনুচিত, কেশপুরে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

১১ আগস্ট, ২০২৬: ক্ষুদিরাম বসুর ইতিহাস পুনরুদ্ধারে কেশপুরে বড় ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর। ভিটে সংস্কার, সংগ্রহশালা ও লেজার শো-এর জন্য ৫ কোটি টাকা অনুদান।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ আগস্ট ২০২৬: বিপ্লবী শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদানের দিন তাঁর বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসকে নতুন করে তুলে ধরতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের পৈতৃক ভিটেতে গিয়ে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তাঁর কপ্টারকে মাঝে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল। তবে সেই সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে তিনি দুপুরেই মোহবনি পৌঁছন এবং তাঁর প্রতিশ্রুত কর্মসূচি পালন করেন।

শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ক্ষুদিরাম বসুর পৈতৃক ভিটে সংস্কার করে সেখানে একটি অত্যাধুনিক সংগ্রহশালা ও গ্যালারি তৈরি করা হবে। বিপ্লবীর জীবন ও সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে থাকবে লেজার শো-এর বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়াও, ক্ষুদিরাম বসু এবং অবিভক্ত পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যাঁরা গবেষণা করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য মোহবনিতে থাকার সুব্যবস্থা করা হবে। এই মহৎ প্রকল্পের জন্য মোহবনি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রাথমিক অনুদান হিসেবে ৫ কোটি টাকা দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ক্ষুদিরামের মতো মহান বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে শুধুমাত্র পাঠ্যক্রমের ৪টি লাইনে সীমাবদ্ধ করে রাখা কোনোভাবেই উচিত নয়।” তাঁর এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতা সংগ্রামের এই মহানায়কের আত্মত্যাগ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর আদর্শকে বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কেশপুরের মোহবনি একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলেও মনে করা হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।