শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে কাকলি! তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা তুঙ্গে রাজ্য রাজনীতিতে

শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা বাড়াল। তৃণমূল ছাড়ার গুঞ্জন তুঙ্গে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ মে ২০২৬ঃ কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক জল্পনার সৃষ্টি করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং নদিয়া – এই তিন জেলা নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে বিরোধী দলের সাংসদ-বিধায়কদের আমন্ত্রণ জানানোর শুভেন্দু অধিকারীর নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পরই কাকলির যোগদান তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১৫ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি, যা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, পূর্বতন সরকারের ‘বয়কটের রাজনীতি’র পথ ছেড়ে এবার থেকে সমস্ত প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হবে। সেই সিদ্ধান্ত এবার বাস্তবায়িত হল। মঙ্গলবার কল্যাণীতে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও আরও তিন তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন, যা তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। বারাসতের তিনবারের সাংসদ হওয়ার পরও ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর তাঁকে লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দলের জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, তিনি হয়তো খুব শীঘ্রই তৃণমূল ছাড়তে পারেন। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে তাঁর যোগদান সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিল। এই নজিরবিহীন ঘটনা তৃণমূলের অন্দরেও নতুন করে চাপানউতোর সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলির এই পদক্ষেপ তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।