তারাতলায় গুদাম ধস: মৃত বেড়ে ৯, গ্রেফতার মালিক; ধ্বংসস্তূপে ক্যামেরা পাঠিয়ে তল্লাশি সেনার

তারাতলায় গুদাম ধসে মৃত বেড়ে ৯, গ্রেফতার মালিক। ধ্বংসস্তূপে ক্যামেরা পাঠিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে সেনা ও এনডিআরএফ। নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ জুন ২০২৬ঃ কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকাজ চলাকালীন আরও একজনের দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কিছু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কায় এনডিআরএফ (NDRF)-এর সঙ্গে যৌথভাবে উদ্ধারকাজে নেমেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকফোকরে বিশেষ ক্যামেরা পাঠিয়ে ভিতরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ল্যাপটপের মাধ্যমে সেই ছবি পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। যে জায়গাগুলিতে জীবিত কারও উপস্থিতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে সতর্কতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। উদ্ধারকারী বাহিনীর দাবি, ধসে পড়া কাঠামোর ভিতর থেকে মাঝেমধ্যেই শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, যা আশার আলো দেখাচ্ছে। বুধবার দুপুরে ব্রেসব্রিজের কাছে নির্মীয়মাণ গুদামের বিশাল লোহার কাঠামো আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন বলে জানা যায়।

মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম ও নির্মাণসামগ্রীর নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যদের। এই ঘটনায় নির্মাণে গাফিলতি বা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। এর আগে সুপারভাইজার ও শ্রমিক সরবরাহকারীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৯ বছরের এক পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ইতিমধ্যেই নিজ গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারাতলার এই বিপর্যয় ঘিরে এখনও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কাটেনি শ্রমিক পরিবারগুলির।