নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলে বিদ্রোহ: ‘ভিভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে অরূপের তোপ, সুশান্তর শুভেন্দুর দ্বারস্থ হওয়া

নির্বাচনে হারের পর তৃণমূলে বিদ্রোহ: অরূপের 'ভিভিআইপি সংস্কৃতি' তোপ, সুশান্তর শুভেন্দুর দ্বারস্থ হওয়া। দলের অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৭ মে ২০২৬ঃ এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আদি ও নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। দলের ভরাডুবির পর কলকাতা পুরসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের পদত্যাগে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল। পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ ছেড়ে দলের ‘ভিভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে বেনজির তোপ দাগলেন অরূপ চক্রবর্তী। নাম না করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১০ গাড়ির কনভয় নিয়ে যাঁরা ঘুরতেন, সেই ভিভিআইপি নেতারা এখন কোথায়?”

তাঁর মতে, মানুষের রায় বিপক্ষে গেলে তা মাথা পেতে মেনে নিতে হবে, অন্যথায় ২০২১ সালের জয়ও মিথ্যা হয়ে যাবে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে দল চাইলে তিনি সব পদই ছেড়ে দিতে রাজি। অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষও ১২ নম্বর বোরোর চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সুশান্ত ঘোষ সরাসরি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁর ওপর হওয়া পুরনো প্রাণঘাতী হামলার তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

তৃণমূলের টিকিটে জেতা এক কাউন্সিলরের বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়া রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভকে আরও স্পষ্ট করেছে। নির্বাচনের ফলাফলের পর যেখানে দলের হারের কারণ পর্যালোচনা করে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে এই জোড়া পদত্যাগ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে হতাশা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ কতটা গভীর। এই আকস্মিক বিদ্রোহ দলের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই তুলে ধরেছে। এখন দেখার, এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়।