পশ্চিমবঙ্গে রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন সাফল্য: এক মাসেই প্রাক্তন সরকারের থেকে ১০০০ কোটি টাকা বেশি সংগ্রহ

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু সরকারের আমলে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড বৃদ্ধি। এক মাসেই প্রাক্তন সরকারের থেকে ১০০০ কোটি টাকা বেশি সংগ্রহ। দুর্নীতি দমনে নতুন পদক্ষেপ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৯ জুলাই ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের অধীনে রাজস্ব আদায়ে এক নজিরবিহীন সাফল্য পরিলক্ষিত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই পূর্ববর্তী সরকারের একই সময়ের তুলনায় ১০০০ কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করেছে।

গত ৯ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে, যা রাজ্যের আর্থিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করছে এবং “ডাবল ইঞ্জিন” সরকারের সুশাসনের দাবিকে আরও জোরালো করছে। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাপক দুর্নীতি ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ ছিল, যার ফলে রাজ্যের কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এই সমস্ত অনিয়ম বন্ধ করতে তৎপর হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে কীভাবে রাজস্ব লুট করা হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রীগোষ্ঠীও গঠন করা হয়েছে এই বিষয়ে তদন্তের জন্য, যা স্বচ্ছতা ফেরানোর অঙ্গীকারবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছে, যা এই রাজস্ব আদায়ের হিসেবের বাইরে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বীরভূমের একটি পাথর খাদান থেকে বছরে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত, যা এখন প্রতি মাসে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই অতিরিক্ত রাজস্ব সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাজ্যবাসীর জন্য সুফল বয়ে আনবে। সরকারের এই পদক্ষেপ রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে।