ব্যুরো নিউজ, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে অনুমোদনহীন মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রথম দফায় ২৫২টি মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই ‘খারিজি মাদ্রাসা’ হিসাবে পরিচিত, যা সরকারি নজরদারির বাইরে পরিচালিত হচ্ছিল। এছাড়াও, আরও ১০০টি মাদ্রাসাকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাদের কাছে অনুমোদনহীনতার কারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার একটি বড় উদ্যোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
গত ২২ জুলাই রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর কলকাতা সহ রাজ্যের সব জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালায়। সেই সমীক্ষার রিপোর্টেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, রাজ্যের প্রায় ২ হাজার ৩৯৬টি মাদ্রাসার কোনও সরকারি অনুমোদনই নেই। এই বিপুল সংখ্যক অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলেছিল এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল। সমীক্ষায় মাদ্রাসাগুলির বর্তমান পরিকাঠামো, পাঠক্রম এবং ছাত্রছাত্রীদের যাবতীয় তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। এই যাচাই প্রক্রিয়ার পরেই অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলি বন্ধের এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দপ্তর। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যে সমস্ত মাদ্রাসা সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলছে না বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মান বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা সঠিক মানের শিক্ষা পাবে এবং শিক্ষার নামে কোনওরকম অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে আরও অনেক অনুমোদনহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।








