ব্যুরো নিউজ, ২ নভেম্বর ২০২৬: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভের (LTCG) উপর কর ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আগামী বাজেট অধিবেশনে এই বিষয়ে বিভিন্ন মহলের মতামত শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একদিকে যেমন এই কর ছাড় বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে, তেমনই অন্যদিকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলটিসিজি কর তুলে নিলে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লাগবে। গত কয়েক বছরে এই কর থেকে সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক সমীক্ষা অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে এই কর বাবদ প্রায় ১.২৯ লক্ষ কোটি টাকা আদায় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই আয় বন্ধ হয়ে গেলে সরকারের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় শূন্যতা তৈরি হবে।
তাছাড়া, কেবল কর ছাড় দিলেই বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজারে টাকা ঢালবেন, এমনটা নাও হতে পারে। বিশ্ব বাজারের সুদের হার, টাকার বিনিময় হার এবং বাজারের সামগ্রিক মূল্যায়নও বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই, কর ছাড়ের ফলে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি কোষাগারে আসবে না, তা নিয়েও অনেকে চিন্তিত।
অন্যদিকে, এই কর ছাড়ের ফলে ধনী বিনিয়োগকারীরা বেশি লাভবান হতে পারেন, যা আয় বৈষম্য বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব এবং করের সমতা বজায় রাখার মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখা জরুরি। সম্পূর্ণ কর ছাড়ের পরিবর্তে করের হার কমানো বা ছাড়ের সীমা বাড়ানোর মতো বিকল্পগুলিও বিবেচনা করা যেতে পারে।








