ব্যুরো নিউজ, ৮ নভেম্বর ২০২৬: ভাইফোঁটার উৎসবে সামিল হয় বাড়ির আদরের পোষ্যটিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই দেখা যায়, আদরের কুকুর বা বিড়ালকে ফোঁটা দেওয়ার মিষ্টি ছবি।
কিন্তু মানুষের উৎসবের নিয়মকানুন কি ওদের জন্য নিরাপদ?
এই বিষয়ে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভাইফোঁটার চন্দন, সিঁদুর বা মিষ্টি অজান্তেই আপনার প্রিয় পোষ্যের জন্য ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। ভাইয়ের কপালে যে চন্দন বা সিঁদুর পরানো হয়, তা ভুলেও পোষ্যের কপালে লাগাবেন না। সিঁদুরের কৃত্রিম রং ও সীসা ওদের সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে চন্দনের কড়া গন্ধ ওদের স্নায়ুর উপর চাপ ফেলে এবং শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। এছাড়া, পোষ্যরা নিজেদের গা চেটে পরিষ্কার করে। কপালে লাগানো চন্দন বা সিঁদুর চেটে ফেললে তা পেটে গিয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তাই ফোঁটা দেওয়ার সময় শুধু আঙুল ছুঁয়ে আশীর্বাদ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। ভাইফোঁটা মানেই নানা রকম মিষ্টির আয়োজন। আদর করে পোষ্যকে মিষ্টি খাইয়ে দিলে তা ওদের জন্য ‘স্লো-পয়জন’ বা ধীরে ধীরে বিষের সমান। মানুষের মিষ্টিতে থাকা অতিরিক্ত চিনি, গরুর দুধ বা ক্ষীর ওদের হজমশক্তি একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এছাড়া, উপহারে পাওয়া চকোলেট বা কিশমিশ ওদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। এক টুকরো চকোলেট বা কয়েকটি কিশমিশও ওদের কিডনি বিকল করে দিতে পারে, এমনকি ডায়রিয়া বা প্যানক্রিয়াটাইটিসের মতো রোগও হতে পারে। উৎসবের দিনে পোষ্যদের আনন্দ দিতে বাজার থেকে ‘পেট-ফ্রেন্ডলি’ কেক বা ট্রিট কিনে আনুন। সেদ্ধ চিকেন বা ওদের পছন্দের খাবার দিয়ে একটি স্পেশাল প্লেট সাজিয়ে দিন। এতে ওরা উৎসবের আনন্দ পাবে এবং সুস্থও থাকবে। পোষ্যকে সুন্দর করে সাজাতে চাইলে গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরাতে পারেন, তবে ওরা যেন সুতো বা প্লাস্টিক চিবিয়ে না ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখুন। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি ওদের সুরক্ষাও সবার আগে জরুরি।










