নির্বাচন পরবর্তী ধরপাকড়: তোলাবাজি-ডাকাতির অভিযোগে বিধাননগর-সন্দেশখালিতে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

নির্বাচন পরবর্তী ধরপাকড়! তোলাবাজি, ডাকাতির অভিযোগে বিধাননগরে কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ও সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শ্রীদাম হাউলি গ্রেফতার। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ই মে ২০২৬ঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলস্বরূপ দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগে একের পর এক গ্রেফতারি শুরু হয়েছে। বিধাননগরের দাপুটে কাউন্সিলরের পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকা সন্দেশখালিতেও গ্রেফতার হলেন এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।

পুলিশ সূত্রে খবর, সন্দেশখালি-২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শ্রীদাম হাউলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। শ্রীদামের বিরুদ্ধে দাঙ্গা বাঁধানো, মারধর, খুনের চেষ্টা, নারী নির্যাতন এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে ভেড়িদখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ২০২০ সালে লকডাউনের সময় পুলিশকে আক্রমণের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে, বিধাননগর পুরনিগমের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। অভিযোগ, তিনি এলাকার ছোট দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন। এক ব্যবসায়ীর দাবি, মাইকেল তাঁর কাছ থেকে একলপ্তে ৩ লক্ষ টাকা তুলেছেন। মাইকেলের গ্রেফতারির পাশাপাশি অভিজিৎ পোল্লে ওরফে ছোটু নামে তৃণমূলের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিও পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। ছোটুর বিরুদ্ধে সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকার হকার, অটো ও বাস চালকদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট স্টাইলে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ছোটু প্রাক্তন পুরপ্রধান সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এই গণগ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, নতুন সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বেছে বেছে তাদের দলের নেতাদের টার্গেট করছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তোলাবাজির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং সংগৃহীত অর্থের ভাগ আর কোন কোন প্রভাবশালী নেতার পকেটে যেত, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হবে।