ব্যুরো নিউজ, ২৩ আগস্ট ২০২৬: রেশন দুর্নীতিতে ফের বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনল কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)-এর রিপোর্ট। ২০২০ ও ২০২১ অর্থবর্ষে রাজ্যে ব্যাপক ধান পাচারের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অ্যাম্বুল্যান্স, বিলাসবহুল ক্যাব এমনকি বাসের মতো অস্বাভাবিক যানবাহনে ধান পরিবহন করা হয়েছে। CAG রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, হাজার হাজার কুইন্টাল ধান নথিভুক্তই ছিল না।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ধান পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ১৯টি গাড়ির কোনো নথি ছিল না। ৬টি তিন চাকার গাড়িতে ১ হাজার ১৫৯ কুইন্টাল এবং ২টি অ্যাম্বুল্যান্সে ১ হাজার ৭৬৪ কুইন্টাল ধান পরিবহনের কথা দেখানো হয়েছে। ৪২৭১ কুইন্টালেরও বেশি ধান নথিভুক্ত করা হয়নি। ভুয়ো বা ডুপ্লিকেট নম্বর ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ ধান পাচার করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ। হুগলির সিউরের সেন্ট্রাল প্রকিওরমেন্ট সেন্টারে (CPC) ধান কেনায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ১০ জনের নামে ৫৯টি এন্ট্রির মাধ্যমে ৪৪.৯৪ লাখ টাকা মূল্যের ২৫৬৮ কুইন্টাল ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। রাইস মিল মালিক ও তাদের পরিবারের ২১ জনের নামে ৩৮২১ কুইন্টাল ধানের হদিশ পাওয়া গেছে। ৯৭টি অতিরিক্ত ভুয়ো এন্ট্রিরও সন্ধান মিলেছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা CPC-তে কোনো ধান বিক্রি না করলেও তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পরও এই ভুয়ো এন্ট্রি চলছিল। বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া এই দুর্নীতির জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন মিলে হাজার হাজার কুইন্টাল ধান কম। কুণাল ঘোষ অবশ্য শুধু অভিযোগ না করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। এই রিপোর্ট রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় গভীর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছে।








