ব্যুরো নিউজ, ৩ জুন ২০২৬ঃ বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন প্রাক্তন শাসকদলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে তদন্ত প্রক্রিয়া এড়াতে মরিয়া চেষ্টায় আদালতের কড়া নাড়লেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। বুধবার বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়েছেন অভিষেকের আইনজীবী, আগামী শুক্রবারই শুনানির সম্ভাবনা।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রবীণ তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের একটি নথিকে কেন্দ্র করে। বিধানসভা সচিবালয়ের স্ক্রুটিনিতে ধরা পড়ে, প্রস্তাবক হিসেবে থাকা একাধিক বিধায়কের সই সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জাল। খোদ স্পিকারের নির্দেশিকায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তদন্তের গতি বাড়াতে মাঠে নামে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি, গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দাদের জেরার মুখে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক কবুল করেছেন যে নথিতে থাকা সই তাঁদের নয়। এই সুসংগঠিত জালিয়াতি চক্রের ‘আসল কারিগর’ কে, তা জানতেই সিআইডি ভবানী ভবনে তলব করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সিআইডির প্রথম নোটিশের পর ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছিলেন অভিষেক। এরপর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে আসেন এবং আগামী ৮ জুনের মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। সেই ডেডলাইনের আগেই, আজ হাইকোর্টে ছুটে গিয়ে নোটিশ খারিজের আবেদন এবং কোনোভাবেই যাতে ‘গ্রেফতার’ না করা হয়, সেই রক্ষাকবচের আর্জি জানালেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, ক্ষমতা থাকতে যে সিআইডি-কে বিরোধীরা ‘দলের ক্যাডার’ বলত, আজ সেই চেনা সিআইডি-র জালেই কেন খোদ ভাইপোকে এভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে? ক্ষমতার হাতবদল হতেই কি তবে নিরপেক্ষ তদন্তের হাওয়া ঘুরতে শুরু করেছে?








