ব্যুরো নিউজ, ৯ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের চাবুক পড়ল পুলিশ মহলে। সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ তারিখে নবান্নের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক নজিরবিহীন নির্দেশিকায় ব্যাপক রদবদলের ঘোষণা করা হয়েছে। এক ধাক্কায় ১৭৯ জন উচ্চপদস্থ আইপিএস (IPS) ও ডব্লুবিপিএস (WBPS) আধিকারিককে বদলি ও পদোন্নতি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি নিছক রুটিন বদলি নয়, বরং নতুন জমানার ‘অপারেশন ক্লিন’ এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার রাশ শক্ত হাতে ধরার এক কড়া বার্তা।
এই রদবদলের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে রাজ্যের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ জেলায়, যেখানে নতুন পুলিশ সুপার (SP) নিয়োগ করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার, বীরভূম, বারাসাত, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং জলপাইগুড়ির মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল জেলাগুলির পুলিশ প্রধানদের সরিয়ে নতুন মুখ আনা হয়েছে। প্রাক্তন শাসক শিবিরের ‘ঘনিষ্ঠ’ তকমা সাঁটা আধিকারিকদের সরিয়ে নিরপেক্ষ ও কড়া ধাঁচের অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে।
যেমন, ডায়মন্ড হারবারের নতুন পুলিশ প্রধান হয়েছেন চন্দ্রশেখর বর্ধন, বীরভূমের এসপি পদে এসেছেন বিদিত রাজ ভুন্ডেশ এবং বাঁকুড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন ভি. সি. সতীশ পাসুমার্তি। শুধু জেলা নয়, কলকাতা পুলিশের লালবাজার এবং রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগেও (IB) ব্যাপক রদবদল হয়েছে। বিধাননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মাকে ইনটেলিজেন্স ব্রাঞ্চের (IB) আইজিপি (IGP) করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের নতুন অতিরিক্ত কমিশনার (Crime) পদে এসেছেন কুণাল আগরওয়াল। শিলিগুড়ির নতুন পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন সৈয়দ ওয়াকার রাজা। নতুন সরকারের এই কড়া পুলিশি বিন্যাসে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা আশাব্যঞ্জক হয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার।







