ব্যুরো নিউজ, ১০ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক এবং পর্যটন দফতরের দায়িত্ব পেয়েই বিতর্কের জন্ম দিলেন নতুন মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। বুধবার নিজের দফতরে প্রবেশ করে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের ব্যবহৃত চেয়ারে বসতে অস্বীকার করেন। তাঁর আর্জিতে দ্রুত সেই চেয়ার বদলানো হয়। পূর্ণিমা চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, “যিনি আগে ছিলেন, অনেক কীর্তি ঘটিয়েছেন। বাংলাকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে অনেক কিছু করেছেন। তাই ওই চেয়ারে বসব না।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর-ও রুজু হয়েছে। অভিযোগ, কলকাতায় দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি’ টিকিট বিক্রির বিরাট চক্রের সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী জড়িত। ‘মেঘদূত ফাউন্ডেশন’-এর দুই কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। দাবি করা হয়েছে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর লোগো ও নাম ভাঙিয়ে পুজোর আগের প্রিভিউ শোয়ের জন্য চড়া দামে ভিআইপি প্রিভিলেজড টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অথচ ইউনেস্কো এই ধরনের কোনও বাণিজ্যিক চুক্তির সঙ্গে যুক্ত নয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ হিসেবে অফিশিয়াল ইমেল এবং আইনি নথিপত্র পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপুজোকে আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে মান্যতা দেওয়ার পর থেকেই কিছু অসাধু চক্র একে মুনাফা লোটার হাতিয়ার বানাতে চাইছে। মন্ত্রীর পরিবারের নাম জড়িয়ে যে চক্রটি সক্রিয় হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও প্রতারণার ওপর দাঁড়িয়ে বলেই অভিযোগ। এই গুরুতর অভিযোগের আবহে নতুন মন্ত্রীর চেয়ার বদলানোর সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।








