মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে ধাক্কা অভিষেকের, মানহানি মামলায় প্রত্যাহার রক্ষাকবচ

মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মানহানি মামলায় তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে আইনি জটিলতা ও চাপ বাড়ল তৃণমূল নেতার।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৭ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট একটি মানহানি মামলায় তাঁর উপর থেকে রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা তাঁর উপর নতুন করে চাপ বাড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পুত্র আকাশ বিজয়বর্গীয় অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন।

অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে মামলাটি ওঠে। আদালতের একাধিক সমন সত্ত্বেও অভিষেক হাজির না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর অভিষেক মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত সেই পরোয়ানার উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর অভিষেকের আইনি দিক থেকে চাপ আরও বেড়েছে।

শুধু এই মামলাই নয়, বিধানসভার সই জালিয়াতি, ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলা, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, আমফান ত্রাণ-দুর্নীতি এবং মাটি চুরির অভিযোগে একাধিক এফআইআর-সহ আরও বেশ কয়েকটি মামলায় তিনি তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন। ইডি এবং সিআইডি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি বিভিন্ন সময়ে তাঁকে তলব করেছে।

অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তাঁর পক্ষে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অভিষেককে ঘিরে অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। দলের একাধিক নেতা তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দলীয় বৈঠকেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই রায় অভিষেকের জন্য এক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।