ব্যুরো নিউজ, ২১ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজকোষের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ‘১২ হাত রাজ্যের ১৩ হাত ধার’ প্রবাদটি এখন নবান্নের অন্দরে নতুন করে চালু হয়েছে, যা রাজ্যের বিপুল ঋণভারের চিত্র তুলে ধরে। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শেষে রাজ্যের মোট পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ৮.১৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে অন্তর্বর্তী বাজেটে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের বিদায়কালে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা, যা গত ১৫ বছরে প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি নাগরিকের উপর গড়ে ৭০,৬৫৩ টাকার ঋণের বোঝা চেপে রয়েছে। রাজ্যের মোট উৎপাদন বা জিএসডিপি-র নিরিখে ঋণের অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা জাতীয় গড় ২৮.৮ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এই কঠিন আর্থিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই সোমবার, ২২ জুন বিধানসভায় নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সকলের নজর এখন তাঁর দিকে, কারণ এই ঋণের মহাসমুদ্র থেকে রাজ্যকে টেনে তোলার জন্য তিনি কী ‘মেকানিজম’ বা দাওয়াই ঘোষণা করেন, সেটাই দেখার।
রাজ্যের আয়ের প্রায় ২০ থেকে ২৮ শতাংশ টাকাই পুরনো ধারের সুদ মেটাতে খরচ হয়ে যায়, যা দেশের অন্যান্য বড় রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। নীতি আয়োগের ‘ফিসকাল হেলথ ইনডেক্স ২০২৫’ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের স্থান ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে ১৬ নম্বরে। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারের হাতে অর্থ প্রায় নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ‘ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং’ রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্য ফেরাতে কতটা সক্ষম হয়, তা সময়ই বলবে।







