ব্যুরো নিউজ, ২৮ জুন ২০২৬ঃ প্রতি বছরের মতো এবারও ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালনের প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ধর্মতলায় এই মেগা সমাবেশের জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে শাসকদল। যদিও এবার রাজ্যে সরকারের পালাবদল হওয়ায় অনুমতি পাওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর এই দিনটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ধর্মতলায় বিশাল জনসভা হয়, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক ভিড় জমান। এই সমাবেশ তৃণমূলের রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট।
তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালন করা হবে। এমনকি মঞ্চের অনুমতি না মিললে রাস্তাতেই কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে সবাই গ্রেফতার হতে প্রস্তুত বলেও জানান মহুয়া। তিনি আরও বলেন, জিপসি গাড়ির উপর দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিটিং করবেন। অন্যদিকে, বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীও ২১ জুলাই পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, এবার নিহতদের পরিবারগুলি যথাযথ সম্মান পাবে, যা আগে উপেক্ষিত ছিল। তাদের প্রথম পছন্দ ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সমাবেশ করা।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই শহিদদের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। কলকাতা পুলিশকে পাঠানো চিঠিতে তৃণমূল স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, বহু দশক ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। গণতন্ত্রের এই সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ১৯ থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ ও ২০ জুলাই সাজসজ্জাকারী ও দলীয় কর্মীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে এবং ২১ জুলাই মূল অনুষ্ঠান বিকেল ৪টের মধ্যে শেষ হবে। তবে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।








