প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও তোলাবাজির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি ও খুনের হুমকির গুরুতর অভিযোগ। ঠাকুরপুকুর থানায় মামলা, প্রাক্তন কাউন্সিলরও অভিযুক্ত। তদন্ত শুরু পুলিশের।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার উঠল শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং খুনের হুমকির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। কেবল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই নন, এই একই মামলায় নাম জড়িয়েছে ঠাকুরপুকুর অঞ্চলের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ এবং তাঁর দুই সহযোগী তিলক ভট্টাচার্য ও সুদীপ ঘোষের। ২০২০ সালের এই ঘটনায় দীর্ঘ ৬ বছর পর ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মহিলা।

অভিযোগকারিণীর দাবি, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই তিনি এই পদক্ষেপ করতে পেরেছেন। ঘটনাটি পুরনো হওয়ায় পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগকারিণী ঠাকুরপুকুর রোডের বাসিন্দা এবং তাঁর শ্বশুরমশাই ছিলেন এলাকার এক পরিচিত বিজেপি নেতা। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ঠাকুরপুকুরের বাছারপাড়া এলাকায় একটি রাজনৈতিক গোলমালে এক যুবক আহত হন। এরপর ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তৎকালীন বিধায়ক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ মুখ বন্ধ রাখার জন্য তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন।

তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা ৬ মাস বন্ধ থাকে এবং ২৫ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করা হয়। পরবর্তীকালে আরও ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়। এরই মধ্যে ২০২০ সালের জুলাই মাসে জেল হেফাজতেই মৃত্যু হয় ওই প্রবীণ বিজেপি নেতার। পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। এতদিন ভয়ে মুখ না খুললেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে ওই পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়-সহ বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খুব শীঘ্রই প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ ও তিলক ভট্টাচার্যদের তলব করা হতে পারে।