ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পরদিনই ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে জোড়া এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। সূত্রের খবর, এই পদক্ষেপে হুমায়ুনের গ্রেফতারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “এনাফ ইজ এনাফ!” তিনি বুঝিয়ে দেন, তাঁর জমানায় উস্কানিমূলক মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। আগের সরকারের আমলে হুমায়ুন কবীর একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করলেও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের আশঙ্কায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তবে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর সেই ধারার পরিবর্তন স্পষ্ট।
তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে এতদিন যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। কিন্তু এখন আর তা চলবে না।” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, গত ২৬ জুন রেজিনগরের এক সভায় হুমায়ুন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন এবং ২৭ জুন পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গালমন্দ করেন। শক্তিপুর থানার এফআইআর অনুযায়ী, একটি ফেসবুক ভিডিওতে হুমায়ুনকে পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘অপমানজনক, মানহানিকর, উস্কানিমূলক’ মন্তব্য করতে দেখা যায়। এই বক্তব্য জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম বলে অভিযোগ।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, মানহানি এবং হুমকির মতো অভিযোগ রয়েছে। এই পদক্ষেপের পর হুমায়ুন কবীরকে বিধানসভায় দেখা গেলেও দুপুরের পর থেকে তাঁর খোঁজ মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী প্রথম রাতেই ‘বিড়াল মেরে’ বুঝিয়ে দিলেন, বেয়াদপি করলে কড়া পদক্ষেপ নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না।








