অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমনে ৪ হাজার সেনা মোতায়েনের ছক পাকিস্তানের, লং মার্চ ঘিরে উত্তেজনা

অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমনে ৪০০০ সেনা ও ৭ রেঞ্জার্স উইং মোতায়েনের ছক পাকিস্তানের। ১৫ জুলাইয়ের লং মার্চ ঘিরে উত্তেজনা, মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ জুলাই ২০২৬ঃ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) বিদ্রোহ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ইসলামাবাদ। আগামী ১৫ জুলাই সেখানকার নাগরিকদের ডাকা ‘লং মার্চ’ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান ফেডারেল সরকার ৪ হাজার অতিরিক্ত সেনা জওয়ান এবং ৭টি পাক রেঞ্জার্স উইং মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এই পদক্ষেপ অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, গত ৮ জুলাই ‘অত্যন্ত জরুরি’ ও ‘গোপনীয়’ লেখা একটি চিঠি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়েছিল। ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর’-এর স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে পাঠানো এই চিঠিতে অবিলম্বে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) সদস্য এবং পাকিস্তান রেঞ্জার্সের উইং মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়। এই ঘটনা স্পষ্ট করে যে, পাকিস্তানের অঙ্গুলিহেলনে চলা অধিকৃত কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএসিসি) ক্রমবর্ধমান প্রভাবে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। জেএসিসি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অধিকার ও স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, যা ইসলামাবাদকে চিন্তায় ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। সেখানকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাক সেনার নৃশংসতা, শোষণ এবং মৌলিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। ১৫ জুলাইয়ের লং মার্চ সেই প্রতিবাদেরই অংশ। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের দমনমূলক নীতি অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন অধিকৃত কাশ্মীরের দিকে, যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।