ভোজশালা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট: মূল সৌধে নমাজ খারিজ, মুসলিমদের জন্য মিলল বিকল্প স্থান

ভোজশালায় মূল সৌধে নমাজের অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে মুসলিমদের জন্য বিতর্কিত স্থানের কাছেই আলাদা খোলা জায়গায় নমাজের ব্যবস্থা করার নির্দেশ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৪ জুলাই ২০২৬ঃ মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বিতর্কিত ভোজশালা-কামাল মওলা কমপ্লেক্স নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত ভোজশালার মূল সৌধে নমাজ পড়ার অনুমতি দিতে অস্বীকার করলেও মুসলিম পক্ষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিতর্কিত সৌধের কাছে একটি খোলা জায়গায় প্রতি শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত মুসলিমরা নমাজ আদায় করতে পারবেন। উল্লেখ্য, এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোজশালা-কামাল মওলা কমপ্লেক্সকে দেবী সরস্বতীর মন্দির বলে রায় দিয়েছিল। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ভোজশালা চত্বরে সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্র এবং দেবী সরস্বতীর মন্দির থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে।

ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, রাজা ভোজের সঙ্গে সম্পর্কিত এই এলাকা সংস্কৃত চর্চার পীঠস্থান ছিল। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুসলিম পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়, তাদের দাবি, ভোজশালা আসলে একটি মসজিদ। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা এই আবেদন শুনতে রাজি হন এবং মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কথা জানান। আদালত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে (ASI) বিতর্কিত চত্বরে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও কাঠামোগত পরিবর্তন না করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ কার্যকর থাকবে।

এই রায় ভোজশালা বিতর্কের এক নতুন মোড়, যা বহু বছর ধরে চলে আসা এই সংবেদনশীল বিষয়টির আইনি সমাধানের দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে এই ভোজশালা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্ক চলছে। হিন্দুরা এটিকে মা সরস্বতীর মন্দির এবং মুসলিমরা এটিকে কামাল মৌলা মসজিদ বলে দাবি করে। বর্তমানে সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দু’দিন দুই সম্প্রদায়কে ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ দেওয়া হয়।