ব্যুরো নিউজ , ১৪ জুলাই ২০২৬: ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের আবহ ক্রমশ জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও আমেরিকার সামরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে। এর ফলস্বরূপ, বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সামরিক সংঘাত যদি আরও বাড়ে, তাহলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ বাড়বে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৮০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডও একই প্রবণতা দেখাচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল তেল আমদানিকারক দেশগুলির জন্যই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সব সময়ই তেলের বাজারে প্রভাব ফেলে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সংঘাত বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।








