হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের ‘অভিভাবক’ শুল্ক: সুপারট্যাঙ্কারকে কত দিতে হবে?

ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালীতে ২০% শুল্ক প্রস্তাব বিশ্ব শিপিং শিল্পে চাঞ্চল্য ফেলেছে। একটি সুপারট্যাঙ্কারকে দিতে হতে পারে $30 মিলিয়ন। এর প্রভাব কী হবে?

Share:

ব্যুরো নিউজ , ১৪ জুলাই ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে শিপিং শিল্পে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ‘অভিভাবক’ হিসাবে কাজ করবে এবং নিরাপদ যাতায়াতের জন্য এই ‘ন্যায্য’ শুল্ক আদায় করবে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, একটি সম্পূর্ণ বোঝাই সুপারট্যাঙ্কারকে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) দিতে হতে পারে, যা বর্তমান অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার মূল্যের উপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর মতো প্রাকৃতিক জলপথগুলিতে জাহাজগুলি বিনামূল্যে চলাচল করে। পানামা বা সুয়েজ খালের মতো মানবসৃষ্ট খালগুলিতে শুল্ক আদায় করা হলেও, প্রাকৃতিক প্রণালীতে সাধারণত এমনটা দেখা যায় না। যদিও ইরান অতীতে কিছু জাহাজের উপর অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিল, ট্রাম্পের এই ২০ শতাংশ প্রস্তাব অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই ধারণাকে সমর্থন করলেও, ২০ শতাংশ শুল্ককে ‘অনেক বেশি’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। তাই এই ধরনের শুল্ক বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ এবং শিপিং খরচকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

শিপিং শিল্পের বিশেষজ্ঞরা এই প্রস্তাব নিয়ে বিস্ময় ও সংশয় প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই শুল্কের পরিমাণ এত বেশি হতে পারে যে, অনেক জাহাজ কোম্পানি এটি বহন করতে চাইবে না। এমনকি, বীমা কোম্পানিগুলিও সুরক্ষার ঝুঁকি বিবেচনা করে এই রুটে কভারেজ দিতে অস্বীকার করতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।