দলিত মা-মেয়েকে তিন মাস বন্দি রেখে ধর্ষণ, গর্ভবতী করে ধর্মান্তরণের চাপ: শাকির হুসেনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

দলিত মা-মেয়েকে ধর্ষণ, গর্ভবতী করে ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে শাকির হুসেনের ১০ বছরের কারাদণ্ড। উত্তরপ্রদেশের বাদাউনের আদালতের রায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ জুলাই ২০২৬:উত্তরপ্রদেশের বাদাউনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দলিত মা ও মেয়েকে ধর্ষণ এবং ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে শাকির হুসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল আদালত। তিন মাস ধরে ওই মা ও মেয়েকে বন্দি রেখে বারবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই পাশবিক অত্যাচারে নাবালিকা মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে তাদের উপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য লাগাতার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত শাকির হুসেনকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর বাদাউনের একটি আদালত এই রায় ঘোষণা করে। বিচারক এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, ধর্মীয় স্বাধীনতাতেও হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শাকির হুসেন ওই দলিত মা ও মেয়েকে জোর করে আটকে রেখেছিল। দিনের পর দিন তাদের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়। বিশেষ করে নাবালিকা মেয়েটির উপর বারবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এই সময়েই তাদের উপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই রায় সমাজে এক কড়া বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দলিত সম্প্রদায়ের উপর এমন বর্বরোচিত আক্রমণ এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরণের চেষ্টার বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্যাতিতাদের ন্যায়বিচার দিতে এবং সমাজে এমন অপরাধ রুখতে এই রায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, তবে আদালতের এই রায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।