ব্যুরো নিউজ, ২৭ জুলাই ২০২৬:রাজ্য বিধানসভায় সম্প্রতি পেশ হওয়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর রিপোর্টে তৃণমূল জমানার একাধিক প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ২৮টি রিপোর্টে আমফান, স্বাস্থ্যসাথী ও যুবশ্রী সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্য সরকার ৩৫ হাজার ১৮ কোটি টাকার কেন্দ্রীয় সহায়তা চাইলেও, বাস্তবে মাত্র ২,৭০৭ কোটি টাকা পাওয়ার যোগ্য ছিল। ৯,২২৬ জন উপভোক্তাকে একাধিকবার বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হয়েছে, যার অঙ্ক ১৮.০৭ কোটি টাকা। এছাড়াও, ২১৮.০৪ কোটি টাকা কেন্দ্রের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এসডিআরএফ-এর বাইরে রাখা হয়েছিল। জনপ্রিয় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেও দুর্নীতির ছায়া দেখা গেছে। ৩১টি বেসরকারি হাসপাতালকে বিধিবহির্ভূতভাবে ‘এমপ্যানেলড’ করা হয়, যার ফলে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়। বহু হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পাননি। বিমা সংস্থাগুলোর কাছে রাজ্যের বকেয়া ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বেড়ে ৩১ কোটি ছাড়িয়ে গেলেও তা মেটানো হয়নি। যুবশ্রী প্রকল্পেও আবেদনকারীদের যাচাইয়ের অভাব থাকায় ভুয়ো উপভোক্তার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিএজি রিপোর্টে ২০২৪-২৫ সালে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি ৩৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে ঋণ বাড়লেও তা উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হয়নি। জেলা হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীর পদ ফাঁকা থাকার বিষয়টিও রিপোর্টে উঠে এসেছে, যা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরেছে।








