ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুলাই ২০২৬ : ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বিষ্ণুপুর ঘরানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উত্তরসূরি পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। বুধবার, ২৯ জুলাই দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। শতবর্ষ ছুঁই ছুঁই এই সুরসাধকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতজগৎ। তাঁর বিদায়ে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের এক গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
জানা গিয়েছে, কোমরের হাড়ে সমস্যার কারণে গত ৮ জুলাই এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পণ্ডিত বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে ফিরে এলেও দিন দুয়েক আগে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বুধবার দুপুর ২.৩০ নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯২৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উত্তর কলকাতার এক ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত পরিবারে জন্ম অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাবা প্রখ্যাত সঙ্গীতাচার্য সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই তাঁর সঙ্গীতের হাতেখড়ি। শুধু অসাধারণ খেয়ালশিল্পীই নন, তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট সঙ্গীত-গবেষকও। ১৯৬৮ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেন এবং দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিষ্ণুপুর ঘরানার ঐতিহ্যকে আধুনিক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল অসামান্য।
ধ্রুপদ, খেয়াল ও রাগসঙ্গীতের গভীর ব্যাখ্যা এবং নিখুঁত স্বরসাধনার জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীর কাছে তিনি ছিলেন একজন পথপ্রদর্শক। সঙ্গীত মহাসম্মান, ভীষ্মদেব পুরস্কার, গিরিজাশঙ্কর পুরস্কার-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বাংলা তথা ভারতের শাস্ত্রীয় সঙ্গীত হারাল এক চলমান প্রতিষ্ঠানকে। তাঁর সাধনা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।








