ব্যুরো নিউজ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত বসিরহাটের দণ্ডীর হাটের বসু বাড়ির দুর্গাপূজা এবার ৩৪৭ বছরে পদার্পণ করল। এই প্রাচীন পুজো শুধু ঐতিহ্য নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য পীঠস্থান। রাধামাধব বসু প্রায় ৩৪৭ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। এই পুজোর মূল আকর্ষণ এর অলৌকিক ‘কলাচ্ছড়া প্রতিমা’। ঠাকুরদালানে পায়রার আনাগোনার ফলে মায়ের দুটি হাত অঙ্গহানি হওয়ার পর পুজোর স্রষ্টা বিন্দুবাসী দেবী স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশেই মায়ের আটটি ছোট ও দুটি বড় হাত নিয়ে এই বিশেষ প্রতিমা তৈরি হয়, যা বহু পূর্ণ্যার্থীদের আকর্ষণ করে।
বসু বাড়ির এই পুজোয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল চিত্র দেখা যায়। প্রতিমা বিসর্জনের আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মায়ের কাঠামো না কাটা পর্যন্ত ইছামতী নদীতে বিসর্জন হয় না। বারো বেয়ারার কাঁধে চেপে প্রতিমা প্রথমে মুসলিম পরিবারে যায়, যেখানে কাঠামো কাটা হয়। এরপর কাহারপাড়ায় সমস্ত সম্প্রদায়ের মেলবন্ধনে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ইছামতী নদীতে মায়ের বিসর্জন সম্পন্ন হয়। এই পুজো প্রাঙ্গণ রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত নটনাট্যকার মনোজ মিত্রের স্মৃতিও বহন করে। তাঁর বিখ্যাত ‘শাহাজান’ নাটক এই ঠাকুরদালানেই মঞ্চস্থ হয়েছিল। বসু পরিবারের সদস্য পার্থ চন্দ্র বসু জানান, চিকিৎসক জগদীশ চন্দ্র বসুর নামে স্কুল ও গ্রন্থাগার সহ একাধিক ঐতিহ্য এই গ্রামের সঙ্গে যুক্ত। এই পুজো বসিরহাটের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।








