আদালতের নথি পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়ার সেলিম: তদন্তে ৫০ জনের তালিকা, নজরে পুলিশ-আইনজীবী যোগ

কোচবিহার আদালতে নথি পাচার কাণ্ডে সিভিক ভলান্টিয়ার সেলিম গ্রেফতার। তদন্তে ৫০ জনের তালিকা, পুলিশ-আইনজীবী যোগের সম্ভাবনা। মোবাইল ফরেন্সিক পরীক্ষা ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আদালতের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচার এবং আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগে কোচবিহার সদর আদালতের সিভিক ভলান্টিয়ার সেলিম রাব্বানীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় তদন্তের গতিপথে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।

দীর্ঘদিন ধরে মামলার সংবেদনশীল নথি ও তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে পাচার করে তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করার অভিযোগ উঠেছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কোর্ট ইন্সপেক্টরের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সেলিমকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৩(২) এবং ৩১৬(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

গ্রেফতারের পর সেলিমের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মোবাইলে থাকা ছবি, নথি, মেসেজ, কল-রেকর্ড এবং অনলাইন লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের দাবি, মামলার বিভিন্ন নথির ছবি তুলে অনলাইন মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠানো হতো এবং এর বিনিময়ে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এই ব্যক্তিদের সঙ্গে সেলিমের যোগাযোগ, ফোনালাপ ও আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এর পিছনে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক থাকতে পারে, যেখানে পুলিশ ও আইনজীবীদের যোগসাজশের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই এক এএসআইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আদালতে কর্মরত সেলিমের প্রভাব এবং  নথি সুরক্ষায় ফাঁক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।