ব্যুরো নিউজ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মার্কিন ভাড়াটে সৈনিক ম্যাথু ভ্যানডাইকের জামিন মঞ্জুর করল দিল্লির বিশেষ আদালত। শুক্রবার তাকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ভারতে খ্রিস্টান রাষ্ট্র তৈরির ভয়াবহ ষড়যন্ত্র এবং উত্তর-পূর্বের জনজাতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন এই কুখ্যাত মার্কিন নাগরিক। প্রশ্ন উঠেছে, দেশে এত বড় নৈরাজ্য ছড়ানোর ছক কষছিল যে, তাকে কেন মার্কিন মুলুকে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল? ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় কংগ্রেস।
গত ১২ মার্চ দমদম বিমানবন্দর থেকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ম্যাথুকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ ছিল, তিনি আমেরিকার তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে যুক্ত এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ গঠনের এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের অংশীদার। এই উদ্দেশ্যে তিনি উত্তর-পূর্বের একাধিক জনজাতিকে সেনার কায়দায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সেনার ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে ম্যাথুর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিহাড় জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে এনআইএ তদন্ত চলছিল। এই মামলার গুরুত্ব এবং ম্যাথুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভয়াবহতা বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুর হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় একজন বিদেশি নাগরিকের জামিন এবং দেশে ফেরার অনুমতি দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী একজন ব্যক্তিকে এত সহজে ছেড়ে দেওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না। মণিপুর হিংসার সঙ্গেও তার যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও ভারতের বিচারব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা নীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।








