আসন্ন পাঞ্জাব ভোটে জোট নিয়ে জল্পনা: আকালি দল প্রস্তুত, বিজেপি কেন দূরত্ব রাখছে?

২০২৭ পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-আকালি জোট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। আকালি দল প্রস্তুত হলেও, বিজেপি কেন দূরত্ব রাখছে? মাদক ইস্যু ও ক্ষমতার সমীকরণই কি মূল বাধা?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে শিরোমণি আকালি দল (SAD) এবং বিজেপির মধ্যে সম্ভাব্য জোট নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁরা সম আদর্শের দলগুলির সঙ্গে জোট গড়তে প্রস্তুত, তবে কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির সঙ্গে কোনো বোঝাপড়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বিজেপির পক্ষ থেকে এই জোট নিয়ে দ্বিধা আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির দ্বিধার প্রধান কারণ দুটি। প্রথমত, বিজেপি এবারের ভোটে ছোট শরিক দলের ভূমিকা পালন করতে রাজি নয়; তারা জোটে নিজেদের কর্তৃত্ব চায়। দ্বিতীয়ত, পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা নিয়ে অমিত শাহ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু আকালি দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে। বিজেপির মাদক বিরোধী প্রচারে এটি বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৯ সালের মধ্যে পাঞ্জাবকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন এবং আপ সরকারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার প্রসারের অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে আকালি দলের সঙ্গে জোট বিজেপির জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

একটি সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিজেপির ভোট শেয়ার ১২.২% এবং আকালি দলের ১১.৩%। যদিও সম্মিলিতভাবে ২৩.৫% ভোট দেখাচ্ছে, তবে ভোট স্থানান্তরের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমিতাভ তিওয়ারি বলেছেন, বিজেপির হিন্দু ভোট আকালি দলে গেলেও, আকালিদের শিখ ভোট বিজেপিতে স্থানান্তরিত নাও হতে পারে। সমীক্ষায় ২৫.৭% মানুষ মাদককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে, বিজেপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে নির্বাচনী সুবিধা পেতে তারা তাদের মাদক বিরোধী অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা বিসর্জন দেবে। অন্যদিকে, আকালি দলও জোটে ছোট ভূমিকা নিতে রাজি হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।