ব্যুরো নিউজ, ৩ নভেম্বর ২০২৬: বাংলার ‘হ্যালোউইন’ হিসেবে পরিচিত ভূত চতুর্দশীর রাত এক অন্যরকম আলোকের উৎসবে মেতে ওঠে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গ্রাম। এই সময়কালে, বিশেষ করে মালদহ ও দুই দিনাজপুর জেলায়, পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত হয় ‘হকাহকি’ অনুষ্ঠান।
আঁধার রাতে ঘরবাড়ি, এমনকি শস্যখেতও আলোকমালায় সেজে ওঠে। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হলো ‘চোর খেলা’। গ্রামের ছেলেমেয়েরা পাটকাঠি দিয়ে তৈরি লণ্ঠনের আদলে খাঁচায় প্রদীপ জ্বালিয়ে বা নারকেলের মালার মধ্যে মোমবাতি রেখে ‘ন্যালটেং’ বা টর্চের মতো আলো নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এটি কেবল একটি খেলা নয়, এর মধ্যে নিহিত আছে কৃষি সভ্যতার প্রাচীন রীতি।
ভাওয়াইয়া শিল্পী কামেশ্বর রায় মনে করেন, এই ‘গছা দেওয়া’ উৎসব আসলে কৃষি বন্দনা। কার্তিক মাসে ধানের খেতে পোকার উপদ্রব বেড়ে যায়, যা তাড়াতে আগুনের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। এই উৎসব তারই প্রতীক।
ভূত চতুর্দশীর রাতে অমাবস্যার আগের দিনের অন্ধকারে গ্রাম দেবতার থানে এবং ঘরের সামনে কলাগাছ পুঁতে গোবর দিয়ে লেপে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ‘অধিকারী’ নামে পরিচিত ব্যক্তিরা বিশেষ আচার পালন করেন। এছাড়াও, গবাদিপশুর মঙ্গল কামনায় তাদের ‘বাখর’ খাওয়ানো হয়। এই সবকিছুর মধ্যে দিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির আর্তি জানানো হয়।
এই ঐতিহ্যবাহী প্রথাগুলি উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ সংস্কৃতিকে এক অন্য মাত্রা দেয়।








