ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: বকেয়া বেতন, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মপরিবেশের উন্নতির দাবিতে ফের উত্তাল বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল! ঢাকা থেকে গাজীপুর—বিভিন্ন এলাকায় রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখালেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও শিল্প পুলিশ। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, একাধিক তৈরি পোশাক বা আরএমজি কারখানার শ্রমিকরা তাঁদের বকেয়া পাওনা মেটানো এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে আন্দোলনে শামিল হন। গাজীপুরের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক-সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি অবরোধ করায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও নিত্যযাত্রীরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, সেই সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকার বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবিকা এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিও সামনে এসেছে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ ঘিরে নতুন করে চাপের মুখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। এখন দেখার, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে এবং কবে স্বাভাবিক হয় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি।










