ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির চেহারা বদলে দিতে এবার বিশালাকার স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই পরিকল্পনাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আদালতে একাধিক মামলা চলার মধ্যেই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫০ ফুট বা প্রায় ৭৬ মিটার উচ্চতার স্মারক তোরণ নির্মাণে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল প্যানেল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশন ৮-৪ ভোটে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। তবে সরকারি ছাড়পত্র মিললেও নির্মাণকাজের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
প্রস্তাবিত এই তোরণটি তৈরি হওয়ার কথা ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়ার সংযোগকারী পটোম্যাক নদীর কাছে, আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির প্রবেশপথের কাছাকাছি। উচ্চতার বিচারে এটি পেডেস্টাল বাদে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির থেকেও প্রায় ১০০ ফুট উঁচু হবে। প্রকল্পের নকশায় রয়েছে বিশাল ব্রোঞ্জের লেডি লিবার্টির মূর্তি, চিরন্তন অগ্নিশিখা, পর্যবেক্ষণ ডেক, অফিস এবং একাধিক আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে আমেরিকার জাতীয় পরিচয় ও সামরিক বাহিনীর অবদানকে সম্মান জানানো হবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এটি আসলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। তাঁদের আশঙ্কা, বিশাল তোরণটি লিংকন মেমোরিয়াল ও আর্লিংটন ন্যাশনাল সিমেট্রির মধ্যবর্তী ঐতিহাসিক দৃশ্যপটও নষ্ট করবে।
বিতর্ক শুধু স্থাপত্যের সৌন্দর্য নিয়েই নয়, উঠেছে আইনি প্রশ্নও। ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া এবং তিনজন প্রাক্তন সেনা-সহ একাধিক পক্ষ এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, এত বড় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জন্য কংগ্রেসের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নির্মাণের ফলে যান চলাচল, জরুরি পরিষেবা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
ন্যাশনাল ক্যাপিটাল প্ল্যানিং কমিশনের চেয়ারম্যান মার্ক পাওলেট্টা অবশ্য প্রকল্পটির পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বের একাধিক বড় শহরে এমন স্মারক তোরণ রয়েছে এবং আমেরিকার জাতীয় পরিচয় তুলে ধরতেও এই ধরনের স্থাপত্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ফেডারেল বিচারপতি তানিয়া চুটকিন নির্মাণকাজ শুরুর উপর ১৪ দিনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ফলে সরকারি প্যানেলের অনুমোদন সত্ত্বেও আপাতত প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
এখন প্রশ্ন, ট্রাম্পের এই মেগা প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, নাকি আইনি জটিলতায় থমকে যাবে তাঁর রাজধানী বদলের পরিকল্পনা?










