মাথায় ঘোমটা, মুখে মায়া! উত্তর কলকাতার মায়ের এই অপরূপ রূপের রহস্য

শ্যামবাজারের শতাব্দী প্রাচীন 'ঘোমটা কালী' মন্দিরের রহস্যময় কাহিনি জানুন। দেবীর শান্ত রূপ ও ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে এই প্রতিবেদন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের এক প্রাচীন মন্দিরে লুকিয়ে আছে এক অনবদ্য কাহিনি। এখানে কালীমূর্তি পরিচিত রূপের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেবীর মাথায় ঘোমটা টানা, মুখে নেই কোনো রুদ্রভাব, বরং এক শান্ত, মায়াবী রূপ। এই দেবীর নাম ‘ঘোমটা কালী’।

শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, বলরাম ঘোষ স্ট্রিটে শতাব্দী প্রাচীন এই মন্দিরে দেবীর এই রূপ ভক্তদের মনে এক গভীর ভক্তির সঞ্চার করে। কথিত আছে, ১৮৮৮ সালে জমিদার বলরাম ঘোষের বংশধর তুলসীরাম ঘোষ এক রাতে দেবীর এমন এক রূপের স্বপ্ন দেখেন। দেবীর মাথায় ঘোমটা এবং তাঁর মুখে এক অদ্ভুত শান্তি ও মায়ার ছাপ ছিল। সেই স্বপ্ন থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দেবীর এই বিশেষ মূর্তি স্থাপন করেন।

সেই থেকে আজও এই মন্দিরে দেবীর এই শান্ত রূপেরই পুজো হয়ে আসছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে এক অন্যরকম আকর্ষণ। ঘোমটা কালীর মন্দিরের রীতিনীতিও বেশ আকর্ষণীয়। প্রতিদিন দেবীর পুজো হয় এবং ভোগে থাকে নুন ছাড়া লুচি, পাঁচ রকমের ভাজা, বোঁদে ও মিষ্টি।

কার্তিক মাসের অমাবস্যা অর্থাৎ কালীপুজোর রাতে এখানে ভক্ত সমাগম হয় চোখে পড়ার মতো। এছাড়া, বাসন্তী পঞ্চমীতে, অর্থাৎ যেদিন মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেদিনও এখানে বিশেষ উৎসব পালিত হয়। তন্ত্রসাধক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলের কাছেই এই মন্দির এক গভীর আস্থার স্থান। ভক্তদের বিশ্বাস, মন থেকে ডাকলে মা কখনও কাউকে খালি হাতে ফেরান না।

এই ‘ছোট ভবতারিণী’ রূপে দেবী আজও তাঁর ভক্তদের সকল মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন এবং পুরনো কলকাতার বুকে এক মায়াবী আবেশ ছড়িয়ে রেখেছেন।