ডিমডিমা চা বাগানে হাতির তাণ্ডব! তছনছ বাড়িঘর, আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী

ডুয়ার্সের ডিমডিমা চা বাগানে হাতির হামলায় এক বাসিন্দার বাড়ি তছনছ। আতঙ্কে গ্রামবাসী, ক্ষতিপূরণ ও হাতি তাড়ানোর দাবি বনদপ্তরের কাছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: ডুয়ার্সের ডিমডিমা চা বাগানে ফের হাতির হানায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার ভোররাতে একটি দাঁতাল হাতি ঢুকে পড়ে নিচ লাইন এলাকায়। বধুয়া খারিয়া নামে এক বাসিন্দার বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেয় হাতিটি। ঘরের চাল, দেওয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে চাল, ডাল, আটা সহ যাবতীয় জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়। সৌভাগ্যবশত, ঘটনার সময় বাড়ির লোকজন প্রাণে বেঁচে গেলেও সর্বস্ব হারিয়ে তাঁরা এখন খোলা আকাশের নিচে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে এই নিয়ে তিনবার ডিমডিমা চা বাগানে হাতির হামলা হল। প্রতিবারই বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসল নষ্ট হচ্ছে। বনদপ্তরের দলগাঁও রেঞ্জে খবর দেওয়ার আগেই হাতিটি তাণ্ডব চালিয়ে জঙ্গলে ফিরে যায়। বনকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই হাতি চলে যাওয়ায় তাদের তাড়ানোর সুযোগ থাকে না। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। সন্ধ্যা নামলেই ভয়ে ঘরবন্দী হচ্ছেন সকলে। বাচ্চাদের বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। চা বাগানের শ্রমিকরাও ভোরবেলা কাজে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি, হাতি লোকালয়ে ঢোকা আটকাতে সোলার ফেন্সিং, টর্চ লাইট ও টহলদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।

বন দফতর জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং কুনকি হাতি পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, জঙ্গলে খাবারের অভাব ও হাতির করিডর নষ্ট হওয়ায় এই সমস্যা বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের উপর জোর দেওয়া উচিত।