ব্যুরো নিউজ, ২৭ মে ২০২৬ঃ বুধবার দুপুরে ঢাকুরিয়ার এক বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টলিপাড়ায় আছড়ে পড়ল এক মর্মান্তিক খবর। গড়িয়াহাটের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন পরিচালক অনীক দত্ত। মুহূর্তের মধ্যে প্রার্থনা শুরু হয়েছিল সিনেপ্রেমীদের মনে, কিন্তু সব প্রার্থনা ব্যর্থ করে দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই টলিউডে নেমে আসে শোকের ছায়া।
জানা যায়, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর সেই নির্ভীক স্রষ্টা আর নেই। মাত্র ৬২ বছর বয়সে ফ্রেমের বাইরে চলে গেলেন বিজ্ঞাপনের ঝকঝকে দুনিয়া থেকে এসে বাংলা সিনেমার ব্যাকরণ বদলে দেওয়া অনীক দত্ত। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণ ঘিরে যেমন রহস্যের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তেমনই এক অদ্ভুত সমাপতন তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাঙালিকে। ২০২৫ সালে তাঁর শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ মুক্তির আগে সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছিলেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে শুটিংয়ে থাকতে না পারাটা অত্যন্ত যন্ত্রণার। শরীর যেভাবে অবনতি হচ্ছে, তাতে মনে হয় না আর নতুন করে ছবি বানাতে পারব। এটাই হয়তো আমার শেষ ছবি।” তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, ওটা ক্ষণিকের ক্লান্তি বা অভিমান।
কিন্তু আজ বোঝা যাচ্ছে, এক বিদায়ী ভবিষ্যৎবাণী অলক্ষ্যে লিখে রেখেছিলেন তিনি। শুধু শরীর নয়, এই ছোট ইন্ডাস্ট্রির দলাদলি, নোংরা প্রবণতা তাঁকে ভিতর থেকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিল। মুম্বইয়ের বড় টাকা আর সম্মান ছেড়ে কলকাতায় এসে বঞ্চনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ দিয়ে যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ হয়ে সত্যজিৎ রায়কে উৎসর্গ করা ‘অপরাজিত’ ছবিতে এক অনন্য চূড়া ছুঁয়েছিল। বাংলা সিনেমা একজন সংবেদনশীল ও বুদ্ধিদীপ্ত অভিভাবককে হারাল। তাঁর তৈরি ‘ভবিষ্যৎ’ কোনওদিন অতীত হবে না।








