ব্যুরো নিউজ, ৩ জুন ২০২৬ঃ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সেরা অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। তাঁর সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ সংগ্রাম, একাকীত্ব এবং অসংখ্য মানসিক আঘাতের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা তাঁর শৈশবের এমন কিছু স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন, যা শুনে অনুরাগীরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। বিহারের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মনোজকে খুব অল্প বয়সেই বাড়ি থেকে দূরে বোর্ডিং স্কুলে পাঠানো হয়েছিল। পরিবারের সান্নিধ্য থেকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া একটি শিশুর জন্য সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন।
অভিনেতা জানান, বোর্ডিং স্কুলে থাকার সময় বড়দের র্যাগিং, একাকীত্ব এবং পরিবারকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট তাঁকে ভীষণভাবে ভেঙে দিয়েছিল। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের থেকে দূরে থাকাটা তাঁর অনুভূতি ও আত্মবিশ্বাসকে প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। এর মধ্যেই একসময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হোস্টেলের একটি ঘরে শয্যাশায়ী ছিলেন। ঘরটি ছিল রান্নাঘরের পাশে, ফলে সারাক্ষণ ধোঁয়ায় ভরে থাকত চারপাশ। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁর স্মৃতিতে স্পষ্ট।
মনোজ বাজপেয়ী বলেন, “আমি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম যে মনে হয়েছিল আর বাঁচব না। দশ বছরের একটি শিশু তখন মৃত্যুর কথা ভাবছিল। মনে হচ্ছিল, বাবা-মাকে আর কোনওদিন দেখতে পাব না।” সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল যখন তাঁর বাবা তাঁকে দেখতে পৌঁছেছিলেন। ধোঁয়ার মধ্যে বাবার অবয়ব দেখে প্রথমে ঈশ্বর মনে হলেও, পরে বাবাকে চিনতে পেরে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় খবর পৌঁছাতে প্রায় এক সপ্তাহ লেগে যেত। আজ ফিরে তাকিয়ে মনোজ মনে করেন, জীবনের সেই কঠিন দিনগুলোই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে এবং আগামীর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করেছে। তাঁর কথায়, “সেই অভিজ্ঞতাগুলোই আমাকে এতটা দৃঢ় করেছে যে আজ কষ্ট এলেও সহজে ভেঙে পড়ি না।”








