পাপিয়া অধিকারীর যুগান্তকারী ঘোষণা: টলিপাড়ায় শেষ ফেডারেশন যুগ, আসছে নতুন কনফেডারেশন

পাপিয়া অধিকারীর ঘোষণায় টলিপাড়ায় শেষ ফেডারেশন যুগ। পরিচালকদের পূর্ণ ক্ষমতা ও স্বচ্ছতার লক্ষ্যে গঠিত হচ্ছে নতুন কনফেডারেশন EIMPCC। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ জুন ২০২৬ঃ টলিপাড়ায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল। বহু বছর ধরে বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের কর্মপরিবেশে প্রভাব বিস্তার করে আসা ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী। তাঁর কথায় স্পষ্ট, পুরনো কাঠামোকে পিছনে ফেলে এবার শিল্প এগোতে চলেছে নতুন পরিচয়ে—’ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যান্ড কালচারাল কনফেডারেশন’ (EIMPCC)-এর হাত ধরে।

টেকনিশিয়ান স্টুডিও প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সভায় পাপিয়া অধিকারী জানান, আগামী পরশু থেকেই নতুন ব্যবস্থার অধীনে বিভিন্ন গিল্ডকে একত্রিত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলা বিনোদন জগতকে আরও সুসংগঠিত, স্বচ্ছ এবং কর্মমুখী করে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সভামঞ্চ থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, একটি শুটিং ইউনিটে কতজন কর্মী প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে শুধুমাত্র প্রযোজক এবং এক্সিকিউটিভ প্রযোজকের হাতে। এই বিষয়ে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের হস্তক্ষেপ তিনি আর দেখতে চান না।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য আসে পরিচালকদের ভূমিকা নিয়ে। পাপিয়ার কথায়, ছবির প্রকৃত ‘ক্যাপ্টেন অব দ্য শিপ’ হলেন পরিচালক। তাই এবার থেকে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা এবং পূর্ণ দায়িত্ব দুই-ই তাঁদের হাতে তুলে দিতে হবে। এতদিন ফেডারেশনের আওতায় থাকা ২৬টি গিল্ডের বর্তমান কাঠামো আর বজায় থাকবে না। পরিবর্তে পরিচালক, সিনেমাটোগ্রাফার, প্রোডাকশন ম্যানেজার এবং কস্টিউম বিভাগের মতো কয়েকটি মূল স্তম্ভকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মপদ্ধতি গড়ে তোলা হবে। এমনকি ইলেকট্রিশিয়ান, ট্রলি বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট বিভাগের মধ্যেই থাকা উচিত। স্টুডিওর বাইরে শুটিং হলেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে কিছু নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশেষ করে ‘ক্যাটওয়াক’-এর মতো পরিকাঠামো কোথায় প্রয়োজন আর কোথায় নয়, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই নেওয়া উচিত বলে মত তাঁর।

ম্যানেজার এবং প্রোডাকশন কন্ট্রোলারদের ভূমিকা নিয়ে পাপিয়া অধিকারীর দাবি, এই ক্ষেত্রগুলিতে দায়িত্ব যেমন অনেক, তেমনই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। টাকা দিয়ে কাজ পাওয়ার অভিযোগ কিংবা অযোগ্য ব্যক্তিদের সুযোগ করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে আপাতত কাউকে আইনি জটিলতায় জড়ানোর পথে হাঁটতে চান না। যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ‘শর্ত নয় প্রত্যাশা, ভয় নয় ভরসা’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে EIMPCC-র পথচলা শুরু হতে চলেছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে কোনও ভোটব্যাঙ্কের সম্পর্ক নেই, এটি শুধুমাত্র শিল্পের স্বার্থে, দাবি পাপিয়ার।