ব্যুরো নিউজ, ২৩ মে ২০২৬ঃ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এবার আরজি কর কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (MES) শাখা থেকে এক কড়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে আরজি কর কাণ্ডের পর চিকিৎসকদের মধ্যে যে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির সিন্ডিকেট সামনে এসেছিল, তার অন্যতম মাথা হিসেবে উঠে এসেছিলেন অভীক দে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, ডাঃ অভীক দে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রাক্তন আরএমও ছিলেন এবং পরে কলকাতার আইপিজিএমইআর (SSKM) হাসপাতালে জেনারেল সার্জারির ইন-সার্ভিস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হিসেবে কাজ শুরু করেন। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার এই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁর চাকরি চিরতরে খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল। অভীক দে-র বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং জুনিয়র ডাক্তারদের উপর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল অনুমোদিত ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে তিনি কীভাবে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হওয়ার ছাড়পত্র পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে একটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। প্রভাব খাটিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে আসন হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। এই নির্দেশের কপি স্বাস্থ্য শিক্ষা দফতর, ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস, আইপিজিএমইআর কর্তৃপক্ষ এবং ভিজিল্যান্স শাখায় পাঠানো হয়েছে। এই সাঁড়াশি তদন্তের মুখে পড়ে অভীক দে ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র সদস্যরা তীব্র উদ্বেগে রয়েছেন। জুনিয়র ডাক্তাররা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।








