‘সম্মান পেলে অভিষেককে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে রাজি’, সুর নরম কল্যাণের, মিটল তৃণমূলের বিবাদ?

তৃণমূলের অন্দরের বিবাদে বরফ গলল। অভিষেককে 'সন্তানসম' বলে সম্মান পেলে বুকে জড়িয়ে কাজ করার বার্তা দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মিটল কি প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্ব?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ জুন ২০২৬ঃ তৃণমূলের অন্দরে প্রবীণ-নবীন দ্বন্দ্বের জেরে তৈরি হওয়া চরম বিবাদে অবশেষে বরফ গলল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যের জবাবে সুর নরম করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিষেককে ‘সন্তানসম’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, সম্মান পেলে তাঁকে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই বিবাদ মেটাতে শুক্রবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চাল দেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ছোট থেকে বড় করেছেন, ওঁর অধিকার আছে আমায় দুটো কটূ কথা বলার।” ‘ভাইপো’-র এই অভাবনীয় এবং পরিণত মন্তব্যের পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মান-অভিমান অনেকটাই কমে আসে। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কল্যাণবাবু বলেন, “অভিষক বন্দ্যোপাধ্যায় আমার সন্তানসম। একজন বয়স্ক মানুষ হিসেবে তো আমার একটা সম্মান প্রাপ্য আছে। ও যদি সেই সম্মানটুকু দিয়ে চলে, তাহলে আমি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। আমার এতে কোনও আপত্তি নেই।”

ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, অভিষেক সরাসরি ক্ষমা না চাইলেও নিজের ভুল স্বীকার করেছেন, যা তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ যদি কোনও জায়গায় নিজের ভুলটা বুঝতে পেরে তা মেনে নেয়, আমি সেটাকে গলদ বলে ভাববো না।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, দলের অন্দরে তাঁর কোনও লোভ নেই, শুধু সম্মান চান। তিনি মমতাদির নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করে বাংলা তথা গোটা দেশের গণতন্ত্র ফেরানোর লড়াইয়ের উপর জোর দেন। যেভাবে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিরোধীদের রাজনৈতিক স্পেস কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের ‘শ্রদ্ধা’ জানানোর তাস এবং কল্যাণের নমনীয় মনোভাবের পর ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব স্বস্তিতে। এই ঘটনা দলের অভ্যন্তরীণ বিবাদকে আপাতত প্রশমিত করল বলেই মনে করা হচ্ছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে সাহায্য করবে।