শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডের জের: কলকাতার ৯১৯ হোটেল-গেস্ট হাউসের লাইসেন্স রদ করল নবান্ন

কলকাতার ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করল নবান্ন। শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডের পর বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলায় এই পদক্ষেপ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি মানা হচ্ছিল না বলে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর নবান্নের নির্দেশে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি শহরের ১৬টি ব্যুরোতে থাকা মোট ৯৬২টি হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান চালায়। তাদের জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯১৯টি প্রতিষ্ঠানে অগ্নি-সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। এই গুরুতর লঙ্ঘনের কারণেই লাইসেন্স রদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত আগস্ট মাসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫ এইচ নম্বর ভবনে অবস্থিত শিখা ইনে গভীর রাতে আগুন লাগে। সেই ঘটনায় ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং ৮০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই শহরের হোটেলগুলির অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে রাজ্য সরকার। বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিটি হোটেলের ফায়ার এক্সিট, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের কার্যকারিতা, জরুরি নির্গমনের পথ এবং অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে। তাদের বিস্তারিত রিপোর্ট হাতে আসার পরই নবান্ন জনসুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত এই ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসেসের প্রধান সচিবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওঙ্কার সিং মীনাকে। এই পদক্ষেপের ফলে কলকাতার হোটেল শিল্পে একটি বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে, তবে এটি শহরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। রাজ্য সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনে কোনো আপস করা হবে না।