বর্ষায় অফবিট গন্তব্য: কলকাতার কাছেই পুরুলিয়ার দোলাডাঙ্গায় সোনাঝুরি জঙ্গল ও লেকের হাতছানি

বর্ষায় কলকাতার কাছেই অফবিট গন্তব্য খুঁজছেন? পুরুলিয়ার দোলাডাঙ্গায় সোনাঝুরির জঙ্গল, লেক ও পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন। জানুন কীভাবে যাবেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২২ জুন ২০২৬ঃ ভরা বর্ষায় ছুটির দিনগুলিতে অনেকেই কলকাতার কাছাকাছি অফবিট গন্তব্যের সন্ধান করেন। তাঁদের জন্য এক দারুণ ঠিকানা হতে পারে পুরুলিয়া জেলার দোলাডাঙ্গা। মুকুটমণিপুর বাঁধের ঠিক বিপরীতে সবুজে ঘেরা এই ছোট্ট গ্রামটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আদিবাসী সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। জয়চণ্ডী পাহাড় বা অযোধ্যা পাহাড়ের মতো পুরুলিয়ার অন্যান্য জনপ্রিয় স্থানগুলির ভিড় এড়িয়ে যারা প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে চান, দোলাডাঙ্গা তাঁদের জন্য আদর্শ। এখানে এলে আপনি সোনাঝুরির ঘন জঙ্গল, কংসাবতী হ্রদের বিশাল জলরাশি এবং দিগন্তে হাতির পিঠের মতো উঁচু-নিচু পাহাড়ের মন মুগ্ধ করা দৃশ্য দেখতে পাবেন।

বর্ষার সময়ে এই অঞ্চলের সবুজ আরও গাঢ় হয়, যা পর্যটকদের এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়। লেকের স্বচ্ছ জলে পা ডুবিয়ে বসে থাকা, নৌকাবিহার করা, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলা বা আদিবাসী নৃত্য উপভোগ করা – সব মিলিয়ে দোলাডাঙ্গা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। লেকের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট দ্বীপগুলি এখানকার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে। খাবারের দিক থেকেও দোলাডাঙ্গা তার নিজস্বতা বজায় রেখেছে। শালপাতায় মোড়া পোড়া মুরগি এখানকার এক বিশেষ আকর্ষণ, যা লেক বা জঙ্গলের মাঝে দোলনায় বসে উপভোগ করার মজাই আলাদা।

কলকাতা থেকে রাতের বাসে মানবাজার পৌঁছে সেখান থেকে টোটো বা ই-রিক্সায় প্রায় ৩০ মিনিটের পথ পেরিয়ে দোলাডাঙ্গায় পৌঁছানো যায়। এছাড়া ট্রেন বা বাসে বাঁকুড়া হয়েও আসা সম্ভব। যারা প্রকৃতি ও শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য বর্ষার দোলাডাঙ্গা এক অনবদ্য গন্তব্য।