ব্যুরো নিউজ, ২৮ মে ২০২৬ঃ বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের ৮,০০০ মিটার (প্রায় ২৬,২৪৭ ফুট) উচ্চতার উপরের অংশটি পর্বতারোহণের পরিভাষায় ‘ডেথ জোন’ নামে পরিচিত। এই অঞ্চলে অক্সিজেনের তীব্র অভাব এবং চরম প্রতিকূলতার কারণে মানবদেহ দ্রুত তার কার্যক্ষমতা হারাতে শুরু করে।
২০২৬ সালের পর্বতারোহণ মরশুমেও এই মৃত্যু অঞ্চলের ভয়াবহতা আরও একবার নির্মমভাবে উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে অন্তত পাঁচজন পর্বতারোহীর মৃত্যুর খবর মিলেছে, যার মধ্যে দু’জন ভারতীয়ও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ডেথ জোনের অন্যতম বিপজ্জনক ‘হিলারি স্টেপ’-এর কাছে জ্ঞান হারিয়ে প্রাণ হারান।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, এই উচ্চতায় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এতটাই কম থাকে যে, প্রতিবার শ্বাস নেওয়ার সময় রক্তে অতি সামান্য অক্সিজেন প্রবেশ করে। এর ফলে ‘হাইপোক্সিয়া’ নামক এক মারাত্মক অবস্থা তৈরি হয়, যেখানে মস্তিষ্কে ও ফুসফুসে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। পর্বতারোহীরা তীব্র বিভ্রান্তির শিকার হন, তাঁদের বিচারবুদ্ধি লোপ পায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারান।
এমনকি, শরীরের ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়। কৃত্রিম অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া এই উচ্চতায় একজন মানুষ মাত্র চার মিনিটের মধ্যে জ্ঞান হারাতে পারেন এবং ছয় মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত। ইতিহাসে এই ‘ডেথ জোন’-এ ৩৪০ জনেরও বেশি পর্বতারোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
এভারেস্টের মূল চূড়া এই ডেথ জোনের গভীরে অবস্থিত, এবং বহু পর্বতারোহী এই অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, সেখানে দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতিতে ধীর গতিতে চলাফেরা করার মতো অনুভূতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্বতারোহীদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড়, শারীরিক ক্লান্তি এবং ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই অঞ্চলকে পৃথিবীর অন্যতম প্রাণঘাতী স্থানে পরিণত করেছে।








