ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুলাই ২০২৬ : কর্মব্যস্ত জীবনে সামান্য ছুটি পেলেই মন চায় প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজতে। আর পাহাড় বললেই বাঙালির মনে ভেসে ওঠে দার্জিলিংয়ের ছবি। তবে এবার দক্ষিণবঙ্গেই খুঁজে নিন এক টুকরো দার্জিলিংয়ের আমেজ। বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার অন্তর্গত জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ি জনপদ ঝিলিমিলি (Jhilimili) এই বর্ষায় পর্যটকদের কাছে এক আদর্শ গন্তব্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এই অফবিট স্থানটিকে অনেকে ‘দক্ষিণবঙ্গের দার্জিলিং’ বলেও অভিহিত করেন। সপ্তাহান্তের ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে দুটো দিন কাটাতে চাইলে ঝিলিমিলি হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ।
উঁচুনিচু পাহাড়ি পথ, ঘন সবুজ বনাঞ্চল আর কংসাবতী নদীর কুলকুল শব্দ ঝিলিমিলিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। শিমুল, পিয়াল, মহুয়া ও শাল গাছের বিস্তীর্ণ বনভূমি দলমা পাহাড়কে ঘিরে রেখেছে, যা বর্ষার ছোঁয়ায় আরও সজীব হয়ে ওঠে। মূল আকর্ষণ ছাড়াও, ঝিলিমিলি থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সুতান হ্রদ ও কুমারী বন, যেখানে সারা বছরই পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে ময়ূরের নাচও প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে। রানীবাঁধ-ঝিলিমিলি রুটের বনভূমির দৃশ্যও মন মুগ্ধ করে তোলে। এছাড়াও, রানীবাঁধের কাছেই অবস্থিত তালবেরিয়া বাঁধ পিকনিকের জন্য জনপ্রিয়। এখানকার ছোট ছোট আদিবাসী গ্রামের সরল জীবনযাত্রা ও সবুজে ঘেরা শীতল পরিবেশ পর্যটকদের মন জুড়িয়ে দেয়। কলকাতা থেকে ঝিলিমিলি পৌঁছানো বেশ সহজ।
হাওড়া বা সাঁতরাগাছি থেকে বাঁকুড়াগামী ট্রেনে চেপে সেখান থেকে গাড়ি বা বাসে করে সরাসরি ঝিলিমিলি যাওয়া যায়। সড়কপথে ধর্মতলা থেকে রাতের বাসে বাঁকুড়া বা সরাসরি ঝিলিমিলি পৌঁছানো সম্ভব। কলকাতা থেকে সড়কপথে আনুমানিক ২২৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। এই বর্ষায় প্রকৃতির কাছাকাছি এক শান্ত উইকেন্ড ট্রিপের জন্য ঝিলিমিলি truly অনবদ্য।








