ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: শীতের ছুটি মানেই কি দার্জিলিং, সিকিম কিংবা রাজস্থানের মরুভূমি? এবার ঘোরার তালিকায় রাখতে পারেন গুজরাতের কচ্ছকে। দিনের আলোয় বিস্তীর্ণ সাদা লবণের প্রান্তর, রাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের আলো, রঙিন লোকসংস্কৃতি আর কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন—সব মিলিয়ে শীতকালে এক অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে পারে ভারতের এই মরু জেলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস কচ্ছ ভ্রমণের অন্যতম সেরা সময়।
কেন শীতের ভ্রমণতালিকায় কচ্ছকে রাখবেন? রইল পাঁচটি বড় কারণ।
১. চোখ ধাঁধানো সাদা মরুভূমি: গ্রেট রান অফ কচ্ছের বিস্তীর্ণ লবণভূমি শীতকালে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সূর্যাস্তের সময় কিংবা পূর্ণিমার রাতে এই সাদা প্রান্তরের সৌন্দর্য হয়ে ওঠে অসাধারণ।
২. রঙিন রান উৎসব: ২০২৬-২৭ সালের রান উৎসব শুরু হয়েছে ১ নভেম্বর থেকে। চলবে ৭ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। ধোরদোতে আয়োজিত এই উৎসবে রয়েছে গুজরাতের লোকসংগীত, নাচ, স্থানীয় খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের সম্ভার।
৩. শিল্প ও কারুশিল্পের গ্রাম: কচ্ছের নিরোনা, অজরখপুর এবং ভুজোদি গ্রাম ঘুরে দেখতে পারেন। রগন পেন্টিং, অজরখ ব্লক প্রিন্টিং, বান্ধনি এবং ঐতিহ্যবাহী বুননশিল্প এখানকার বিশেষ আকর্ষণ।
৪. হরপ্পা সভ্যতার ঐতিহাসিক নিদর্শন: ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য ধোলাভিরা এক অসাধারণ গন্তব্য। সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতার এই প্রাচীন নগরীতে রয়েছে দুর্গের ধ্বংসাবশেষ এবং উন্নত জলসংরক্ষণ ব্যবস্থার নিদর্শন। কয়েক হাজার বছর আগের নগরজীবন সম্পর্কে জানতে পারবেন পর্যটকরা।
৫. মরুভূমির বন্যপ্রাণী ও সমুদ্রসৈকত: শুধু মরুভূমি নয়, কচ্ছে রয়েছে বিস্তীর্ণ জলাভূমি, তৃণভূমি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। শীতকালে পরিযায়ী পাখি, ফ্লেমিঙ্গো এবং ভারতীয় বন্য গাধা দেখার সুযোগ মিলতে পারে। পাশাপাশি ঘুরে আসতে পারেন মান্ডভি সমুদ্রসৈকত এবং ঐতিহাসিক বিজয় বিলাস প্যালেস থেকেও।
তাই এবারের শীতের ছুটিতে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা চাইলে কচ্ছ হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য। প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি আর অ্যাডভেঞ্চার—এক সফরেই মিলবে সবকিছু।










