৪০ পেরোলেই কি কমছে পেশির জোর? সুস্থ থাকতে নিয়মিত ভারোত্তোলনই হতে পারে গোপন অস্ত্র!

পেশী কমে যাওয়া ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞের মতে, স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: বয়স বাড়ছে মানেই শরীরের শক্তি কমবে, পেশির জোর হারাবে—এমন ধারণা এবার বদলানোর সময় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪০ বছর পেরোলেই শরীরের পেশি সংরক্ষণে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। আর সেই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম। শুধু পেশি তৈরি নয়, মেদ ঝরানো, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সুস্থভাবে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার ক্ষেত্রেও এই ব্যায়ামের বিশেষ উপকারিতা রয়েছে।

সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে চিকিৎসক ডঃ ক্লে মস স্ট্রেংথ ট্রেনিং নিয়ে বেশ কিছু প্রচলিত ধারণা ভেঙেছেন। তাঁর মতে, ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে শরীরের মেদ কমাতে সুবিধা হয়। বিশেষ করে ওজন কমানোর সময় রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং না করলে শরীর থেকে চর্বির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পেশিও কমে যেতে পারে। ফলে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞ সadhna সিংহের মতে, ৪০ বছরের পর বয়সজনিত কারণে পেশিক্ষয় দ্রুত বাড়তে পারে। তাই পেশির শক্তি ধরে রাখা শুধু শারীরিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, চলাফেরা, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং দৈনন্দিন কাজে স্বনির্ভর থাকার জন্যও জরুরি।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হাঁটা বা কার্ডিয়ো ব্যায়াম করলেই পেশিক্ষয় সম্পূর্ণ আটকানো যায় না। পেশির শক্তি বজায় রাখতে স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে শুধু ভারোত্তোলন নয়, কার্ডিয়ো ও শক্তিবর্ধক ব্যায়াম একসঙ্গে করাই সবচেয়ে কার্যকর।

নতুনদের জন্য সপ্তাহে ২-৩ দিন হালকা ওজন দিয়ে পুরো শরীরের ব্যায়াম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি সঠিক পদ্ধতি, পর্যাপ্ত প্রোটিন, বিশ্রাম এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি।

অর্থাৎ, বয়স ৪০ পেরোলেই ব্যায়াম থেকে দূরে থাকা নয়, বরং পেশির যত্ন নেওয়াই হতে পারে সুস্থ বার্ধক্যের অন্যতম চাবিকাঠি।