কোণার্ক নয়, ১০০০ বছর পূর্ণ করল গুজরাটের এই সূর্য মন্দির!

গুজরাটের মোধেরা সূর্য মন্দির পা রাখল ১০০০ বছরে। কোণার্কের মতো বিখ্যাত না হলেও এর স্থাপত্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মেলবন্ধন আজও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

Share:

ব্যুরো নিউজ,  ২৭ অক্টোবর ২০২৬: ভারতের স্থাপত্যের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করল গুজরাটের মোধেরা সূর্য মন্দির। হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং শিল্পকলার সাক্ষী হয়ে এই মন্দিরটি সম্প্রতি তার ১০০০ বছর পূর্ণ করল। সাধারণত সূর্য মন্দির বললেই কোণার্কের নাম মনে আসে, কিন্তু এই মন্দিরটি তার নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল। ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১০২৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত এই মন্দিরটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার প্রতিটি বাঁক ও খাঁজ সূর্যের গতিপথকে মাথায় রেখে পরিকল্পিত। এটি এক অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন।

মন্দিরটি মূলত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত – সূর্য কুণ্ড, সভা মণ্ডপ এবং অতি পবিত্র গর্ভগৃহ। মন্দিরের প্রবেশপথেই রয়েছে সুবিশাল সূর্য কুণ্ড, যার চারদিকে ১০৮টি ছোট ছোট মন্দির শোভা পাচ্ছে। এরপরই চোখে পড়ে ৫২টি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল সভা মণ্ডপ। সবশেষে রয়েছে সেই পবিত্র গর্ভগৃহ, যেখানে একসময় সূর্য দেবতার মূর্তি অধিষ্ঠিত ছিল। এই মন্দিরের নির্মাণশৈলীতে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নির্ভুল মাপজোক স্পষ্ট। জলবিষুব ও মহাবিষুবের দিনে সূর্যের রশ্মি সরাসরি গর্ভগৃহে থাকা সূর্য দেবতার মূর্তির ওপর পড়ত।

এমনকি প্রতিদিন সূর্যের প্রথম রশ্মিও মন্দিরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করত। গুজরাটের এই মোধেরা সূর্য মন্দির তাই আজও পর্যটকদের কাছে এক অন্যতম আকর্ষণ, যা হাজার বছরের প্রাচীন স্থাপত্যের অসামান্য দক্ষতা ও শিল্পকলা প্রদর্শন করে।