ব্যুরো নিউজ, ১০জুন ২০২৬ঃ ত্রিপুরার মেঘ-পাহাড়ের কোলে সগর্বে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক প্রাচীন শৈবতীর্থ, যার নাম উনকোটি। সপ্তম শতকের এই পুণ্যভূমি নাকি উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথের চেয়েও প্রাচীন। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই স্থানে মহাকালের স্পর্শ অনুভূত হয় প্রতি মুহূর্তে। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে নামছে রুপোলি ঝরনা, চার পাশে ঘন জঙ্গল আর তার মাঝে পাথরের গায়ে খোদাই করা এক আশ্চর্য মায়ালোক। এখানে পাথর যেন কথা বলে, জঙ্গল আর দেবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যান। উনকোটির ভাস্কর্যগুলি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত – পাহাড় কেটে তৈরি মূর্তি এবং পাথরের সাধারণ মূর্তি।
এখানকার মূল আকর্ষণ হল শিবের বিশাল মুখাবয়ব, যা ‘উনকোটিশ্বর কাল ভৈরব’ নামে পরিচিত। প্রায় ৩০ ফুট উঁচু এই মূর্তির জটাজালই ১০ ফুট লম্বা। এই জটার এক পাশে সিংহবাহিনী দুর্গা এবং অন্য পাশে আরও একটি নারীমূর্তি খোদাই করা রয়েছে। ভারতের বৃহত্তম বাস-রিলিফ ভাস্কর্য বা খোদাই শিল্প দেখতে পাওয়া যায় এখানেই। মাটিতে আংশিক ডুবে থাকা তিনটি বিশাল নন্দী মূর্তি এবং গণেশের বিশালাকার মূর্তির কারুকার্যও পথিকের নজর কাড়ে। এই ভাস্কর্যগুলির নির্মাণশৈলী প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলার এক অনবদ্য উদাহরণ।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্থানটি সপ্তম থেকে নবম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত হয়েছিল, যা এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে। উনকোটি শুধু একটি তীর্থস্থান নয়, এটি এক ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিস্ময়। যারা ইতিহাস, ধর্ম এবং প্রকৃতির মেলবন্ধন দেখতে চান, তাদের জন্য উনকোটি এক আদর্শ গন্তব্য। এই প্রাচীন শৈবতীর্থ দর্শনে ইচ্ছুক ভ্রমণার্থীরা প্রয়োজনীয় খুঁটিনাটি জেনে যাত্রা শুরু করতে পারেন। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর প্রাচীন শিল্পের মেলবন্ধনে উনকোটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে।








